দাঙ্গার ভেতর সম্প্রীতির বার্তা, হিন্দু-মুসলিম জুটির বিয়ে

কিছু একটা হবে, কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল। অনেকেই সাবধান করেছিল। কিন্তু, যে দিনটার জন্য এত অপেক্ষা সেই দিনটাকে ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিয়েই হাতে মেহেন্দি লাগিয়ে তৈরি হচ্ছিলেন সাবিত্রী।

ছবিটা সেই দিল্লির। যেখানে গত তিনদিন ধরে শুধুই ধোঁয়া, আগুন, আর্তনাদ আর হাহাকার। সোমবার যখন আগুন জ্বলতে শুরু করেছে চাঁদবাগ সহ অন্যান্য জায়গায়, সেদিনই চলছিল সাবিত্রীর বিয়ের তোড়জোড়। পাত্র আবার মুসলিম। তাই আনন্দের থেকে আশঙ্কাই ছিল বেশি।

বাড়ির ছাদে গিয়ে তখন সাবিত্রীর বাবা দেখেন, চারপাশে ধোঁয়ায় ঢাকা। মেয়ে তখন বাড়িতে বসে চোখ মুছছে, ভেবে নিয়েছে বিয়েটা বোধহয় আর হবে না। তবে বিধির লিখন কে আর খণ্ডাতে পারে! তাই প্রতিবেশীদের পাহারায় বিয়েটা হয়ে গেল।

একটা ছোট বাড়িতে সাবিত্রীর বিয়েটা হয়ে যায় সেদিনই। সেই চাঁদবাগেই হল বিয়েটা। বাইরে তখন রণক্ষেত্রের চেহারা। পুড়ে যাচ্ছে দোকানপাট। সাবিত্রীর বাবা বলেন, ‘আমরা জানি না এসব কারা করছে, তবে তারা আমার প্রতিবেশী নয়। আমাদের এখানে হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে কোনও শত্রুতা নেই।’

সাবিত্রী বলেন, ‘আগের দিন থেকেই কানাঘুষো শুনছিলাম। কিন্তু, তবু হেনা লাগিয়ে রেখেছিলাম। ভেবেছিলাম পরের দিন সব ঠিক হয়ে যাবে। কীভাবে পাত্র আসবে, সেটাই ভেবে উদ্বিগ্ন হচ্ছিলেন সবাই।

প্রতিবেশী আমির মালিক বলেন, ‘আমরা এখানে শান্তিপূর্ণভাব বাস করি।’

বিয়েতে আত্মীয়রা আসতে পারেননি কেউ। কিন্তু মালা বদল করে যখন সম্প্রীতির বার্তা তৈরি হচ্ছে বিধ্বস্ত দিল্লিতে, তখন সাক্ষী ছিলেন প্রতিবেশীরা।