দিল্লি যখন জ্বলছিল, পুলিশ তখন ক্রিকেট খেলছিল

দিল্লির সংঘর্ষের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪২ এ দাঁড়িয়েছে। এখনও থমথমে মৌজপুর বাবরপুর, জাফরাবাদের মতো বেশ কয়েকটি এলাকা। শুক্রবারের নমাজের আগে নিরাপত্তার লক্ষ্যে গুরুগ্রামে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

হিংসার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৪৮টি এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। দিল্লির হিংসার তদন্তে দু’টি বিশেষ তদন্তকারী দল (‘সিট’) গঠন করা হয়েছে। পরিবর্তন করা হয়েছে দিল্লির পুলিশ কমিশনারকে।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে হিংসার ঘটনায় কারা কারা জড়িত, কারা অর্থ জোগাচ্ছে, তা খুঁজে বের করার জন্য দিল্লি হাইকোর্ট এ দিন কেন্দ্রীয় সরকার, দিল্লি সরকার ও দিল্লি পুলিশকে নোটিস দিয়েছে। তবে দিল্লির সহিংসতার ঘটনায় সাধারণ মানুষ দুষছে পুলিশের নিস্ক্রিয়তাকে। তারা বলছে, পুলিশ যথাসময়ে পদক্ষেপ নিলে এমন ঘটনা ঘটতো না।

শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, দাঙ্গা শুরুর সময় দিল্লির কনট প্লেসের কাছে বড়াখাম্বা রোডের একটি বেসরকারি স্কুল মাঠে বাৎসরিক প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচে মজে ছিলেন পুলিশ সদস্যরা। তাদের মাঠ থেকে বড়জোর ১০ কিলোমিটার দূরে জাফরাবাদ। সেখান থেকে বারবার সাহায্য চাওয়া সত্ত্বেও পুলিশ কর্ণপাত করেনি। এমনকি খেলা শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত একজনও এ নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন বোধ করেননি। দাঙ্গার কারণ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওই সময় পুলিশ তৎপর হলে সহিংসতা এত দূর গড়াত না।

খবরে বলা হয়, এবারের ঘটনায় ক্রিকেট ম্যাচ উপলক্ষ মাত্র। মূলত দক্ষ কর্মকর্তার অভাব, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার অক্ষমতা, সব স্তরে পুলিশকর্মীদের আত্মবিশ্বাস তলানিতে নেমে যাওয়ার প্রভাব শুধু দিল্লির দাঙ্গাতেই নয়, জামিয়া থেকে জেএনইউ সবখানেই দেখা গেছে। বারবার ফুটে উঠেছে দিল্লি পুলিশের অদক্ষতার ছবি।

ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, অতীতে এ ধরনের পরিস্থিতি হলে সবার আগে প্রতিটি বাড়ির ছাদে পুলিশ মোতায়েন করা হতো। আটকে দেয়া হতো উপর থেকে আক্রমণের পথ। এরপর প্রতিটি গলির দু’প্রান্ত আটকে সবাইকে বাড়িতে ঢুকিয়ে দিতে পারলেই ঝামেলা শেষ! কিন্তু এবারের দাঙ্গায় প্রথম দু’দিন পুলিশ কী করবে, তা স্পষ্ট ছিল না তাদের কাছে।

প্রশ্ন উঠছে ওই সময় দিল্লির পুলিশ কমিশনার অমূল্য পট্টনায়কের দক্ষতা নিয়েও। তিনি কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময়ই ক্রাইম ব্রাঞ্চ, ভিজিল্যান্স ও প্রশাসনিক বিভাগে কাটিয়েছেন। এ কারণে বাহিনী পরিচালনায় তার দক্ষতার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ব্যর্থ দিল্লির গোয়েন্দা বিভাগও। উত্তর-পূর্ব দিল্লির ওই এলাকাগুলোতে উগ্রবাদীরা পেট্রোলবোমা, ইট, বন্দুক জমা করছে, বাইরের লোক এলাকায় ঢুকছে, মুসলিমদের বাড়ি চিহ্নিত করছে, হোয়াটসঅ্যাপের বিভিন্ন গ্রুপের মাধ্যমে সমবেত হতে বলা হচ্ছে, এসব কোনোটাই ধরতে পারেনি গোয়েন্দারা।