দিল্লির দাঙ্গা: বিয়ের ১২ দিনের মাথায় স্বামী হারালেন ফাতিমা

বিয়ের ১২ দিনের মাথাতেই এক যুবকের প্রাণ কেড়ে নিল দিল্লির দাঙ্গা। স্বামীকে হারিয়ে এখন পাগলপ্রায় নববধূ তসলিন ফাতিমা।

পূর্ব দিল্লির গোকুলপুরীর অন্তর্গত মুস্তফাবাদে সপরিবারে বাস করেন আশফাক। পেশায় বিদ্যুৎকর্মী তিনি। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তে উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের সাখনিতে তসলিনের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর।

পরিবার পরিজনকে নিয়ে সবকিছু মেটাতেই বেশ কয়েক দিন লেগে যায়। ভেবেছিলেন সব কিছু মিটিয়েই দিল্লি ফিরবেন। তসলিনকে নিয়ে সেখানেই নতুন জীবনে পা রাখবেন। একে অপরকে চিনবেন, জানবেন।

কাজের প্রয়োজনে রবিবার রাতে একাই মুস্তফাবাদের বাড়িতে ফিরে আসেন আশফাক। দুপুরে খাওয়ার পরই একটি ফোন আসে আশফাকের কাছে। বলা হয়, পাড়ায় একটি বাড়িতে আচমকা বিদ্যুৎ চলে গিয়েছে। তাকে গিয়ে দেখতে হবে। সেই মতো ১২ দিনের স্ত্রীকে রেখে বাড়ি থেকে বেরোন আশফাক।

পরস্পরকে সেই শেষ দেখা তাঁদের। তার পর আর ফেরা হয়নি আশফাকের। বাড়ি থেকে কিছু দূর এগোতেই গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরিবারের লোকজন কিছু জানার আগে স্থানীয়রাই তাঁকে নিউ মুস্তফাবাদের আল হিন্দ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই মৃত্যু হয় আশফাকের। ময়নাতদন্তের জন্য পরে গুরু তেগবাহাদুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর দেহ। কিন্তু শুক্রবার পর্যন্ত তাঁর দেহ হাতে পায়নি পরিবার।

গত তিন দিন ধরে ছেলের ওয়ার্কশপে বসে কেঁদে চলেছেন আশফাকের বাবা। শুধু নিজের ছেলে নয়, চার দিন ব্যাপী হিংসায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের সকলকে শহিদ ঘোষণা করতে হবে বলে দাবি তাঁর।

আর তসলিন? কিছু বলার মতো অবস্থায় নেই তিনি। উপরের একটি ঘরে গত তিন দিন ধরে জ্বর নিয়ে পড়ে রয়েছেন তিনি। এই তিন দিনে একটি দানাও মুখে তোলেননি তিনি। পানি পর্যন্ত ছুঁয়ে দেখেননি। মুখে একটাই আফশোস, ‘‘মানুষটা কেমন, তা জানতেও পারলাম না।’’