মৃত্যুকূপ স্পেন, লাশ রাখার জায়গা নেই মর্গে

মৃত্যুতে ইতোমধ্যেই চীনকে ছাপিয়ে যাওয়া স্পেনে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬৫৬ জন। এ নিয়ে সেখানে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৪৭ জন।

এদিন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৪৫৭ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯ হাজার ৫১৫ জন।

স্পেনে এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৩৬৭ জন কোভিড-১৯ রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। এখনও চিকিৎসাধীন ৪০ হাজারের বেশি মানুষ। এদের মধ্যে ৩ হাজার ১৬৬ জনের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন বলে জানা গেছে।

স্পেনে সংক্রমণের হার বেড়ছে পাঁচগুণ এবং বর্তমানে প্রায় ২৭ হাজার মানুষকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

ভাইরাসের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে রাজধানী মাদ্রিদে, তবে উত্তর-পূর্বের কাতালোনিয়া অঞ্চলে দ্রুতবেগে বাড়ছে সংক্রমণের হার।

দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী কারমেন কালভো করোনভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সরকার।

আরো দুই সপ্তাহের জন্য বাড়িয়ে ১১ই এপ্রিল পর্যন্ত স্পেনে জরুরি অবস্থা বাড়ানো হবে কি-না, তা নির্ধারণ করতে ভোট দেবেন দেশটির সংসদ সদস্যরা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে জরুরি কেনাকাটা বা ওষুধ কেনা এবং কাজের জন্য ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়া নিষিদ্ধ।

মাদ্রিদ শহরে মৃতদের সৎকার করার প্রতিষ্ঠান মঙ্গলবার জানায় যে তারা কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্তদের মৃতদেহ সংগ্রহ করা বন্ধ করে দিয়েছে। শহরের প্রধান আইস রিঙ্ক বা বরফের মধ্যে স্কেটিং করার জায়গা ব্যবহার করা হবে অস্থায়ী মর্গ হিসেবে।

নাগরিকদের সহায়তা করতে যেসব সেনাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছিল, তারা সোমবার কিছু বৃদ্ধ নিবাসে গিয়ে দেখতে পান যে সেখানে প্রবীণদের ফেলে রেখেই চলে গেছে নিবাসের কর্মীরা।

সেখানে কয়েকজনকে মৃত অবস্থায়ও পান তারা।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে নিবাসের কয়েকজন বাসিন্দার মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর তাদের ফেলে চলে যান কয়েকটি নিবাসের কর্মীরা।

করোনায় সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছেন ইতালিতে। দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৬৮৩ জন, আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ২১০ জন। এ নিয়ে সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ৩৮৬ জন, মৃত্যু হয়েছে ৭ হাজার ৫০৩ জনের।

এছাড়া, চীনে মোট ৮১ হাজার ২১৮ জনের শরীরে ধরা পড়েছে নভেল করোনাভাইরাস, মারা গেছেন ৩ হাজার ২৮১ জন।