সীমান্তে চীন-ভারত উত্তেজনা, সংঘাতের আশঙ্কা

লাদাখে ভারতের রাস্তা নির্মাণ নিয়ে বিতর্কের শুরু। এই ঘটনাকে মোটেও সহজ চোখে দেখছে না চীন। লাদাখের প্যাংগঙ লেকের পূর্ব প্রান্তে তাই ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করছে বেইজিং।

জানা গিয়েছে, গত দু সপ্তাহ ধরে প্যাংগঙ লেকের পূর্ব তীরে একের পর এক চীনা নৌকা জমায়েত করছে। বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।

উল্লেখ্য এই লেকের পূর্ব প্রান্ত চীনের সীমান্ত হলেও, পশ্চিম প্রান্ত ভারতের অধীনে। সেখানেই রাস্তা তৈরি করেছে ভারত। তা নিয়েই আপত্তি চীনের।

এই টানাপোড়েনে ক্রমশ উত্তেজনা বাড়ছে বিশ্বের সর্বোচ্চ সীমান্তের এলএসি (লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল) জুড়ে। এর আগে তিনটি পেট্রলিং নৌকা মোতায়েন রাখত চীন। এখন সেই সংখ্যা তিন গুণ বেড়ে গিয়েছে। একই সংখ্যক পেট্রলিং নৌকা রাখা শুরু করেছে নয়াদিল্লিও।

৪৫ কিমি সীমান্ত জুড়ে চলছে টহলদারি। সূত্র বলছে চীনের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত সমস্যার মূল সূত্রপাত প্যাংগঙ লেক ঘিরে। শুধু নৌকার সংখ্যা বাড়ানোই নয়, তাঁদের শারীরিক ভঙ্গিতেও এসেছে আক্রমণাত্মক মনোভাব।

শুধু লাদাখ সীমান্তই নয়, এর আগে উত্তরাখণ্ডে মানস সরোবর যাত্রার জন্য একটি সংক্ষিপ্ত আন্তর্জাতিক সড়ক উদ্বোধন ঘিরেও বিতর্কের সূত্রপাত হয়। নেপালের দাবি, ওই সড়কের কিছু অংশ ভারত নিজের বলেছে।

কাঠমাণ্ডুর দাবি, ১৮১৬ সালে ইঙ্গ-নেপাল যুদ্ধের পর সুগৌলি চুক্তি অনুসারে লিম্পিয়াধুরা, কালাপানি এবং লিপুলেখ কোনওভাবেই ভারতের নয়। এর পরেই বিতর্ক শুরু। তবে এই বিতর্ককে অন্য চোখে দেখছে ভারতীয় সেনা। সেনাপ্রধান এমএম নারাভানের মতে নেপালের এই আস্ফালনের পিছনে রয়েছে প্রত্যক্ষভাবে চিনের মদত।

সবমিলিয়ে উত্তেজনা চরমে। কিছুদিন আগে দুই দেশের সেনা সংঘাতে জড়িয়েছিল। এবারও সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।