জেরুজালেমে ইসরায়েলের বর্বরতা, মুসলিম বিশ্বের সাহায্য চায় হামাস

জেরুজালেমে তৃতীয় দিনের মত ইসরায়েলি পুলিশের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের সংঘর্ষ হয়েছে। সোমবার ইহুদি জাতীয়তাবাদীদের মিছিলকে কেন্দ্র করে আরও সহিংসতা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বার্ষিক জেরুজালেম দিবস উপলক্ষে পতাকা মিছিলের আয়োজন করেছে ইহুদি জাতীয়তাবাদীরা। এই দিনে সাধারণত তরুণ ইহুদিরা মুসলিম এলাকাগুলোতে মিছিল নিয়ে প্রদক্ষিণ করে।

পবিত্র এই শহরে ইহুদিবাদী সেনাদের বর্বর আগ্রাসন ঠেকাতে মুসলিম বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান ইসমাইল হানিয়া।

রোববার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে উদ্দেশ করে একটি চিঠি পাঠান  হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান ইসমাইল হানিয়া।

এতে জেরুজালেম আল-কুদস শহরে ইসরাইলি সেনাদের চলমান আগ্রাসন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে ইহুদিকরণ, ও আল-আকসা মসজিদে মুসল্লিদের ওপর হামলার মতো ঘটনার দিকে তিনি সর্বোচ্চ নেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

পবিত্র রমজান মাসে ইসরাইলের আগ্রাসী তৎপরতার সমালোচনা করে ইসমাইল হানিয়া বলেন, ইসরাইলকে এ ধরনের তৎপরতার জন্য বিপজ্জনক পরিণতির মুখে পড়তে হবে।

ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে ইসমাইল হানিয়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতি বিশেষ আবেদন জানান।

একইসঙ্গে ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরাইলের বর্বরতা বন্ধের জন্য আন্তর্জাতিক কূটনীতির মাধ্যমে পুরো মুসলিম বিশ্বকে জাগিয়ে তোলার আহ্বান জানান।

সোমবার সকালে পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ফিলিস্তিনি মুসলিমদের ওপর তাণ্ডব চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। তারা ফিলিস্তিনিদের ওপর রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে কয়েকশ’ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কারও কারও অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট কর্তৃপক্ষ এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে জানিয়েছে, সহিংসতায় কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে অন্তত ৫০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এর আগে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার শঙ্কায় সোমবার ইহুদিদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুসারে মিছিল নিয়ে আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে পুলিশ।