‘পুতিনকে সরাতে অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি চলছে রাশিয়ায়’

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ক্ষমতা থেকে সরাতে অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন দেশটির সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা। সেই প্রস্তুতি বর্তমানে যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে পুতিনের পক্ষে আসন্ন সেই অভ্যুত্থান থামানো অসম্ভব।


এছাড়া ক্যান্সারসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। এ কারণে অদূর ভবিষ্যতে এমনিতেই দেশ পরিচালনার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবেন তিনি।


যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে এসব বলেছেন ইউক্রেন সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল পদমর্যাদার সেনা কর্মকর্তা কিরিলো বুদানভ।


বুদানভ বলেন, ‘রাশিয়ান ফেডারশেনে নেতৃত্বের পরিবর্তন আসবে। ইতোমধ্যে দেশটির সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’


‘ব্যাপারটি ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে এবং কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি বর্তমানে যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে পুতিনের পক্ষে তা থামানো অসম্ভব।’


এছাড়া পুতিনের শারীরিক অবস্থাও ভালো নয় বলে দাবি করেছেন মেজর জেনারেল বুদানভ। সাক্ষাৎকারে এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পুতিনের শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ এবং তিনি খুবই অসুস্থ। আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, তিনি ক্যান্সারসহ নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন।’


দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধে বিভিন্ন ভুয়া খবর ও প্রপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে এবং একে আখ্যা দেয়া হয়েছে তথ্য যুদ্ধ (ইনফরমেশন ওয়্যার) হিসেবে।


বুদানভের এসব তথ্যও ‘তথ্য যুদ্ধের’ অংশ কি না— প্রশ্ন করা হয় বুদানভকে। উত্তরে তিনি দাবি করেন, এসব তথ্য ভুয়া নয়। ‘এটা আমার চাকরি, আমার কাজ; আমি যদি এসব তথ্য না জানি, তাহলে কে জানবে,’ স্কাই নিউজকে বলেন কিরিলো বুদানভ।


সম্প্রতি অবশ্য পুতিনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে খানিকটা ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেসবের মধ্যে একটিতে দেখা যায়, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে হাত মেলানোর সময় কিছুটা কাঁপছেন পুতিন।


তারপরই গুঞ্জন ওঠে—পার্কিনসন্সে ভুগছেন পুতিন। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিন এই গুজব খারিজ করে দিয়েছে।


পাশাপাশি, অস্ট্রেলিয়ার প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম নিউজ ডট কম ডট এইউ দাবি করেছে, পুতিনের দৈনন্দিন জীবনযাপন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করে ক্রেমলিন।


এ বিষয়ে নিউজ ডট কমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশ এবং বিশ্বের কাছে পুতিনের দৃঢ় ভাবমূর্তি গঠন, বিভিন্ন সরকারি বৈঠকে তিনি কতক্ষন কথা বলবেন— তা নির্ধারণ করাসহ পুতিনের দৈনন্দিন জীবনের কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ এখন ক্রেমলিনের হাতে।